মঞ্জুরুল মুন্সীর প্রার্থিতা পুরোপুরি বাতিল, অন্য ঋণখেলাপিদের কেন নয়?
Admin
Feb 03, 2026
5 Views
Fig: Image 03
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়েছে। মনোনয়ন ফিরে পেতে করা তাঁর লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। ফলে তিনি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। এর আগে গত ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা মঞ্জুরুল মুন্সীর রিট খারিজ করেন। বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ওই আদেশ দেন।
মঞ্জুরুল মুন্সীর পক্ষে আদালতে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ ও অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ আল মামুন। অপরদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকীসহ অন্য আইনজীবীরা।
কেন মঞ্জুরুল মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল হলো
আইনি ও তথ্যগত কয়েকটি কারণে আদালতে টেকেনি তাঁর মনোনয়ন—
প্রথমত, এটি প্রথমবার নয়। ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪—চারবারই ঋণখেলাপির কারণে তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হন। ২০০৮ সালে তাঁর স্ত্রী এবং ২০১৮ সালে তাঁর ছেলে তাঁর পরিবর্তে প্রার্থী হন।
দ্বিতীয়ত, প্রায় ১৩০ কোটি ৮২ লাখ ৭১ হাজার টাকা ঋণ থাকা সত্ত্বেও এবারে হলফনামায় তিনি জ্ঞাতসারে মিথ্যা তথ্য দেন। সেখানে দাবি করা হয়, তাঁর কোনো ঋণ বা দায় নেই—যা আদালতের মতে গুরুতর তথ্য গোপন।
তৃতীয়ত, প্রার্থিতা ঝুঁকিতে বুঝতে পেরে তিনি আংশিক পরিশোধের চেষ্টা করেন। প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৯৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকার মধ্যে দেন মাত্র দেড় কোটি টাকা, আইডিএলসির ৩৬ কোটি টাকার মধ্যে দেন ৬২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা—যা মোট ঋণের এক শতাংশেরও কম। প্রাইম ফাইন্যান্সে পাঁচ লাখ ৭১ হাজার টাকা দেনা থাকলেও সেটিও পরিশোধ করা হয়নি।
চতুর্থত, আইন অনুযায়ী তাঁর সব ঋণই ‘রাইট-অফ’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত। এই ধরনের ঋণ এককালীন পরিশোধ ছাড়া নিষ্পত্তির সুযোগ নেই। ২ শতাংশ বা ৫ শতাংশ দিয়ে পুনঃতফসিল করার বিধান এখানে প্রযোজ্য নয়। ফলে আংশিক পরিশোধে ঋণখেলাপির তকমা কাটেনি।
তাহলে অন্য ঋণখেলাপিরা কেন টিকে গেলেন?
আইনি লড়াইয়ের ধারাবাহিকতা ও চাপের অভাবই এখানে বড় কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা আইনজীবীরা পূর্ণ শক্তিতে মামলা এগিয়ে নেননি। কোথাও আপস, কোথাও ঝুঁকি এড়ানোর চেষ্টা, আবার কোথাও পর্যাপ্ত আইনি প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল। ফলে কেউ কেউ ঋণখেলাপি হয়েও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন—যা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
শেষ কথা
এই মামলার রায়ে আদালত আবারও স্পষ্ট করেছে—প্রার্থী যত প্রভাবশালীই হোন, হলফনামায় মিথ্যা ও ঋণখেলাপির বিষয় গোপন করলে রেহাই নেই। সততা, ধারাবাহিক আইনি লড়াই এবং সাহস থাকলে এককভাবেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব—এই বার্তাই দিয়েছে মঞ্জুরুল মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিলের রায়
Share this article: